Recent Posts

6/recent/ticker-posts

কালা যাদু-- ০৯ (বাস্তু দোষ)

 




**#কলকাতা শহর।
আদ্রিজা আর শুভদীপ, দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জে থাকেন। দুজনেই চাকরিজীবী, আরামদায়ক জীবন। কিন্তু গত এক বছর ধরে তাঁদের পরিবারে যেন এক অদৃশ্য ছায়া নেমে এসেছে। শুভদীপ রাতে ঘুমোতে পারে না, মাঝেমধ্যে কাঁদে—অকারণে। বাচ্চা মিহিরা সারারাত চিৎকার করে কেঁদে ওঠে। আদ্রিজার মনে হয়, ঘরের ভেতরে কেউ হেঁটে বেড়াচ্ছে, অথচ কেউ নেই।
ডাক্তার দেখানো হয়েছে, থেরাপি হয়েছে, বাস্তু বিশেষজ্ঞও এসে গেছেন। কেউ কিছু বলতে পারেননি। কিন্তু সমস্যাটা যাচ্ছে না। একদিন আদ্রিজার মাসতুতো বোন—যিনি ঢাকায় থাকেন—ভিডিও কলে বলল,
"তুই নূর ভাইয়ের নাম শুনেছিস? উনি আমাদের এক আত্মীয়ের বাসায় অলৌকিক চিকিৎসা দিয়ে এমন জিনিস করে দিয়েছেন, যেটা শুনলে তুই বিশ্বাস করবি না। উনি খুব অল্প টাকা নেন, বাংলাদেশে থাকেন, একজন সুফি সাধক।"
“ঢাকার একজন লোক কীভাবে আমাদের বাসার সমস্যা ঠিক করবে?”, আদ্রিজা বললো।
কিন্তু তখন এমন এক অবস্থা—চেষ্টা তো করাই যায়।
একদিন সন্ধ্যায় WhatsApp-এ কলে কথা হলো ঢাকার নূর ভাইয়ের সাথে।
তিনি কথা বেশি বলেন না।
"আপনারা ঘরের ভিডিও একটু ঘুরিয়ে দেখান,"
নূর ভাই বললেন।
আদ্রিজা ফোন হাতে নিয়ে রান্নাঘর, খাটের নিচ, বাথরুমের দরজা—সব দেখাল। নূর ভাই কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।
"আপনারা যে বাড়িতে আছেন, এটা আগে পুরনো নার্সিংহোম ছিল, জানেন?"
"না... শুনিনি।"
"এই ধরনের জায়গায় মৃত্যুর স্মৃতি জমে থাকে। সেটা জায়গার শক্তি হয়ে ওঠে। ওটাই বাস্তু দোষ হয়ে রয়ে যায়। আপনার স্বামী সেই শক্তি নিজের ভেতর টেনে নিচ্ছেন।"
আদ্রিজা আঁতকে উঠল, "আপনি এটা এতদূর থেকে বুঝলেন কীভাবে?"
নূর ভাই হালকা হেসে বললেন,
"বোঝার জন্য দূরত্ব সমস্যা না। বিশ্বাস থাকতে হয়। আমি কিছু সমাধান পাঠাচ্ছি। DHL-এ পৌঁছে যাবে দুই-তিন দিনে। আর ভিডিও কলে নিয়ম বলে দেবো—কোথায় কীভাবে কই করতে হবে, কী বলতে হবে। কোনো পাথর লাগবে না। শুধু ঘরের সঙ্গে কথা বলুন।"
তিন দিন পর এক ছোট্ট কার্টনে কিছু রেমেডি এসে পৌঁছালো।
নূর ভাই ভিডিও কলে কিভাবে কি করতে হবে নির্দেশ দিলেন।
আদ্রিজা একটু দ্বিধায় থাকলেও সব নিয়ম মেনে চললেন।
অদ্ভুতভাবে, পাঁচদিনের মধ্যেই পরিবেশ বদলে গেল।
শুভদীপ রাতে ঘুমোতে পারছে। চোখের নিচের কালি হালকা হয়েছে।
মিহিরা আবার খেলায় মন বসিয়েছে।
আদ্রিজা নিজেও যেন এক অদ্ভুত ভারমুক্ত হালকা অনুভব করছে।
শুধু তাই নয়, ঘরের বাতাস যেন হালকা—আরো উজ্জ্বল, শান্ত।
একদিন রাতে ভিডিও কলে নূর ভাইকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়েছিলেন আদ্রিজা।
তিনি শুধু বললেন,
"মানুষ ভুলে যায়, ঘরও একটা প্রাণ। ওর দুঃখ থাকলে মানুষের জীবনেও অশান্তি আসে। আমি শুধু ঘরটাকে ওর কথা বলার সুযোগ দিয়েছি।"
কলকাতার বালিগঞ্জের এক আধুনিক অ্যাপার্টমেন্টে, আর ঢাকার এক নির্জন অলিগলিতে—দুই শহর, দুই প্রাণ, কিন্তু এক বিশ্বাসের সেতুবন্ধ।
এভাবেই এক বাংলাদেশি মানুষ, যিনি বিজ্ঞাপন দেন না, শুধু আন্তরিকতার আর বিশ্বাসের দিয়ে কাটিয়ে দেন সীমান্ত পেরোনো বাস্তু দোষ।
এই শহরে কেউ যখন বলে, “সব চেষ্টা করেছি, কিছু হয়নি”—
সেই সময় হয়তো ফোনের ওপারে অপেক্ষা করে থাকেন একজন—
নাম তাঁর, নূর ভাই।
✍️ রতন কর্মকার
(01715982155)

Post a Comment

0 Comments