যোগানন্দের_বিশ্বজয় (৩য় পর্ব)
*#শৈশব থেকেই মায়ের সঙ্গে ঠাকুরঘরে বিভোর বসে থাকত শিশুটি, একা থাকলেই ডুবে যেত তন্ময় নীরবতায়। গোরক্ষপুরের বাড়ির উঠোনে এক দিন দিদি উমা তাঁর পায়ে একটা ফোড়া হয়েছে বলে মলম লাগাচ্ছেন, মুকুন্দও খানিকটা নিয়ে হাতে লাগাল, ‘‘দেখ দিদি, আমার মনে হচ্ছে কাল আমার হাতে একটা ফোড়া বের হবে। যে জায়গায় ফোড়াটা বেরোবে, সেইখানে তোমার মলমটা লাগিয়ে দেখছি।’’ দিদি তো হেসে কুটিপাটি, মিথ্যুক কোথাকার! মুকুন্দ রেগে বলল, ‘‘খবরদার আমায় মিথ্যুক বোলো না, আমার অন্তরের প্রবল ইচ্ছাশক্তি জোরেই আমি বলছি যে, কাল আমার হাতে ঠিক এই জায়গাটিতেই বেশ বড়গোছের একটি ফোড়া বেরোবে, আর তোমার ফোড়াটি এই সাইজের ঠিক ডবল হয়ে ফুলে উঠবে, দেখো।’’ পর দিন সকালে দেখা গেল, ঠিক তা-ই হয়েছে। দিদি ছুটে গিয়ে মা’কে সব জানাতে, তিনি গম্ভীর হয়ে মুকুন্দকে বলেছিলেন, আজ থেকে জীবনে কারও ক্ষতি করার জন্য কোনও বাক্যের শক্তির অপব্যবহার কোরো না।
*#অটোবায়োগ্রাফি_অব_আ_যোগী বা ‘যোগিকথামৃত’-বইয়ের পাতায় পাতায় আশ্চর্য এক জীবনকথা। রামকৃষ্ণকথামৃতের পাতায় মাস্টারমশাই ‘শ্রীম’ লিখে গিয়েছেন বিভূতি, সিদ্ধাইয়ের প্রতি দক্ষিণেশ্বরের ‘পাগলা বামুন’-এর বিরাগ-বিতৃষ্ণার কথা। মুকুন্দ— যাঁকে স্কটিশ চার্চ বা শ্রীরামপুর কলেজের সহপাঠীরা ‘পাগলা সন্ন্যাসী’ বলে ডাকত— সাধনমার্গের পথে চলতে চলতে সেও মুখোমুখি লোকচক্ষুতে ব্যাখ্যাতীত সব ঘটনার, দর্শনের। মৃত্যুর আগে তাঁর মা লিখে রেখে গিয়েছিলেন কাশীর লাহিড়ীমশাইয়ের কথা, দুধের শিশু মুকুন্দকে দেখে যিনি বলেছিলেন, তোমার ছেলে এক জন যোগী হবে, আধ্যাত্মিক ইঞ্জিনের মতো বহু লোককে টেনে নিয়ে যাবে। লাহিড়ীমশাইয়েরও গুরু বাবাজি মহারাজ বলে গিয়েছিলেন মুকুন্দের গুরু শ্রী যুক্তেশ্বর গিরিকে, উপযুক্ত এক শিষ্য আসছে তোমার, যে ক্রিয়াযোগ শিখে, কালে পশ্চিমে যাবে এই দর্শন প্রচার করতে। সেই শিষ্যই মুকুন্দ তথা যোগানন্দ! তাঁর জীবন ও কাজের ধারাও পূর্বনির্দিষ্ট!
*#ক্রিয়াযোগই গুরুপরম্পরায় বয়ে আসা সেই দর্শন, যার প্রচারে যোগানন্দ আমেরিকা জয় করলেন। এ এক শারীরমনস্তাত্ত্বিক প্রণালী, যার দ্বারা ‘‘শরীরের রক্ত অঙ্গারশূন্য হয়ে অম্লজান দ্বারা প্রতিপূরিত হয়। এই অতিরিক্ত অম্লজানের পরমাণু প্রাণধারায় রূপান্তরিত হয়ে মস্তিষ্ক আর মেরুদণ্ডের কেন্দ্রগুলিকে সঞ্জীবিত করে।’’ যোগী ক্রমশ শরীরের ক্ষয় হ্রাস বা নিবারণ করতে পারেন। ক্রিয়াযোগ চর্চায় আরও এগিয়েছেন যিনি, তিনি শরীরকোষগুলিকে রূপান্তর করতে পারেন শক্তিতে। অর্থাৎ, সাধক মহাপুরুষদের জীবনচরিত যেমন ইচ্ছেমতো আবির্ভাব বা অদৃশ্য হওয়ার ‘অলৌকিক’ কাহিনিতে ভরপুর, সেই জিনিস হতে পারে এই যোগসহায়েই!
*#ক্রিয়াযোগ সাধনে যোগী মুক্ত হতে পারেন কার্য-কারণের শেকল থেকে, অন্য যে কোনও মানুষের মন বা চিন্তার সঙ্গে মিলিয়ে দিতে পারেন নিজেকে। কিন্তু এহ বাহ্য, আসল ও শেষ কথা, ক্রিয়া-প্রক্রিয়া-অনুষ্ঠানাদির পারে পরমাত্মার সঙ্গে ‘যোগ’।
চলবে.......
✍️ ব্যাখ্যাঃ রতন কর্মকার +8801715982155 (whatsapp)

0 Comments