যোগানন্দের_বিশ্বজয় (৫ম পর্ব)
*#অটোবায়োগ্রাফি অব আ যোগী শুধুই এক আত্মকথন নয়। নিজে কী হলাম, কী পেলাম, তার খতিয়ান নয়। শুরুর দিকের অধ্যায়গুলি বিবিধ সাধু-সংবাদে পূর্ণ। ‘দুই দেহধারী সাধু’ প্রণবানন্দ, ইচ্ছেমতো যে কোনও সুগন্ধে চারপাশ ভরিয়ে দিতে পারা ‘গন্ধবাবা’, ভবানীপুরের সোহহং স্বামী, আপার সার্কুলার রোডের লঘিমাসিদ্ধ সাধু ‘ভাদুড়ীমশাই’— সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কথোপকথনের বিবরণ লিখে গিয়েছেন যোগানন্দ। তাঁর বর্ণনায় ভাল-মন্দ, আসল-গাঁজাখুরির ভ্যালু জাজমেন্ট নেই, এক আশ্চর্য নৈর্ব্যক্তিকতা আছে। সাধুদের কীর্তিবর্ণনায় তিনি অযথা তরল বা গম্ভীর, কোনওটাই হন না। বরং পাঠককে বলতে চান, মানো না মানো, এই সব কিছুই ভারতের বহু সাধকের বহু সাধনার ধারা। কেউ প্রায়-অলৌকিক শক্তি প্রদর্শন করবেন, আবার কেউ দৈনন্দিন সাংসারিকতার মধ্যে থেকেও লুকিয়ে রাখবেন বিপুল অধ্যাত্ম-ঐশ্বর্য।
*#রামকৃষ্ণকথামৃতের রচয়িতা ‘মাস্টারমশাই’ মুকুন্দকে নিয়ে দক্ষিণেশ্বর ঘুরিয়ে দেখান, আবার ইউনিভার্সিটি বিল্ডিংয়ের সামনে ফুটপাতে হঠাৎ-স্পর্শে দেখান ‘জীবন্ত বায়োস্কোপ’, সেখানে কলকাতার কর্মচঞ্চল পথচারী, মোটর, ট্রামগাড়ি মুহূর্তে নিঃশব্দ হয়ে পথ চলতে থাকে।
*#কলকাতায় মুকুন্দদের বাড়ির ঠিকানা ছিল ৪ নং গড়পার রোড, অনতিদূরে ছিল ১০০এ গড়পার রোডে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর বাড়ি, যে বাড়িতে মৃত্যুশয্যায় শায়িত সুকুমার রায়কে এসে দেখে গিয়েছিলেন, গান শুনিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আবার কাছেই আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর বাড়ি, সেখানেও বিজ্ঞানীকে দেখতে গিয়েছিলেন তরুণ মুকুন্দ। প্রবীণ বিজ্ঞানী তাঁকে ল্যাবরেটরিতে এসে তাঁর আবিষ্কৃত ক্রেস্কোগ্রাফ দেখে যেতে বলেছিলেন। প্রেসিডেন্সি কলেজ ছেড়ে জগদীশচন্দ্র স্থাপনা করলেন বসু বিজ্ঞান মন্দির, সেই উদ্বোধন-অনুষ্ঠানেও গিয়েছিলেন মুকুন্দ। বিশদে লিখে গিয়েছেন বিজ্ঞানীর সে দিনের ভাষণ, ‘অটোবায়োগ্রাফি অব আ যোগী’ বইয়েই। পরেও গিয়েছিলেন তাঁর কাছে, দেখেছিলেন ফার্নের গায়ে ক্রেস্কোগ্রাফ লাগিয়ে দেওয়ার পর পর্দায় তার ধীর অথচ সুস্পষ্ট বেড়ে ওঠা, ক্লোরোফর্ম প্রয়োগে তার থেমে যাওয়া, তীক্ষ্ণ অস্ত্রের আঘাতে তার যন্ত্রণায় স্পন্দিত হওয়া।
চলবে.......
✍️ ব্যাখ্যাঃ রতন কর্মকার +8801715982155 (whatsapp)

0 Comments