Recent Posts

6/recent/ticker-posts

যোগীরাজ বাণী ও এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা

 





যোগীরাজ বাণী ও এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা

যোগীরাজ শ্যামাচরণ লাহিড়ী মহাশয় বলেন, "দেহের অধীন বন্দী হওয়া বন্ধ কর; ক্রিয়ার গোপন চাবি ব্যবহার করে, আত্মায় মুক্ত হতে শেখ।"

*#আধ্যাত্মিক_তাৎপর্যঃ

আমরা সাধারণত নিজেদের শরীরের সঙ্গে এত বেশি একাত্ম হয়ে যাই যে, এটাকেই প্রকৃত "আমি" বলে মনে করি। অথচ, যোগশাস্ত্র বলে যে, দেহ একটি সাময়িক বাহন মাত্র; আসল পরিচয় আত্মা।

ক্রিয়াযোগের মূল লক্ষ্যই হলো— শরীর ও মনকে সংযত করে আত্মার প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করা। দেহের সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে চেতনার উচ্চতর স্তরে পৌঁছানো

ক্রিয়াযোগ সাধনায় প্রথম ধাপে শারীরিক ও মানসিক স্থিতিশীলতা অর্জন করতে হয়। ইন্দ্রিয় ও মন যখন নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন দেহের ওপর নির্ভরতা কমতে থাকে এবং একজন যোগী ধীরে ধীরে আত্মস্বরূপ উপলব্ধি করতে সক্ষম হন।

এখানে "গোপন চাবি" বলতে বোঝানো হয়েছে ক্রিয়াযোগের গূঢ় তত্ত্ব ও তার অভ্যাস।

*#ক্রিয়াযোগ_কী?

ক্রিয়াযোগ একটি বৈজ্ঞানিক সাধন প্রণালী যা শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে চেতনার উচ্চতর স্তরে উন্নীত করে।

*#ক্রিয়াযোগের_মূল_স্তরসমূহ:

★ প্রাণায়াম ও সংযম – শ্বাস-প্রশ্বাসের সঠিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেহে প্রানশক্তির প্রবাহ ঠিক করা হয়।

★ অন্তর্মুখী ধ্যান – চিত্তকে বাহ্যিক বিশ্বের প্রতি নিরপেক্ষ করে অভ্যন্তরীণ সাধনায় স্থির করা হয়।

★ সুষুম্না-সংগঠন – কুণ্ডলিনী শক্তিকে জাগ্রত করার জন্য ক্রিয়াযোগের বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করা হয়, যার ফলে শরীরের সাতটি চক্র সচল হয়।

★ সমাধি – চূড়ান্তভাবে, যোগী নিজের আত্মস্বরূপ উপলব্ধি করেন এবং সর্বোচ্চ ব্রহ্মস্বরূপে প্রতিষ্ঠিত হন।

এই ধাপগুলো অনুশীলন করলে চেতনার গভীর পরিবর্তন আসে, এবং মানুষ দেহকেন্দ্রিক জীবন থেকে আত্মকেন্দ্রিক জীবনে উত্তীর্ণ হতে পারে।

যোগীরাজের মতে, প্রকৃত মুক্তি মানে শুধুমাত্র জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তি নয়, বরং চেতনার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানো। যখন একাগ্রচিত্তে ক্রিয়াযোগ করা হয়, তখন ধীরে ধীরে শরীরের ওপর নির্ভরতা কমতে থাকে। ক্রমশঃ আত্মার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন হয়, এবং মানুষ অনুভব করতে শুরু করে যে, সে কেবল শরীর নয়, সে নিরবিচার, শাশ্বত আত্মা। এই অবস্থায় মানুষ প্রকৃত মুক্তির স্বাদ পায়, যা কেবল জ্ঞান বা শাস্ত্র পাঠ করে নয়, বরং অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়।

এই বাণঈটি এটি একটি জীবন্ত সাধনার আহ্বান।

দেহকে নিয়ন্ত্রণে এনে গুরুর দেওয়া ক্রিয়াযোগের গোপন রহস্য অনুসরণ করতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাসের সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ ও ধ্যানের মাধ্যমে এবং নিজের প্রকৃত আত্মস্বরূপ উপলব্ধি করাই এই বাণীর উদ্দেশ্য। এইভাবেই একজন যোগী "দেহের অধীন বন্দী হওয়া বন্ধ করে" এবং "আত্মায় মুক্ত" হয়ে প্রকৃত পরমাত্মার সাথে একীভূত হতে শেখে।

[ তাৎপর্য ব্যাখ্যাঃ রতন কর্মকার ]

Post a Comment

0 Comments