"দিব্যদৃষ্টি" শব্দের অর্থ হলো এক বিশেষ প্রকারের আধ্যাত্মিক বা অতিপ্রাকৃত দৃষ্টি, যার মাধ্যমে ব্যক্তি সাধারণ ইন্দ্রিয়গম্য বিষয়ের অতীত জ্ঞান লাভ করতে পারেন। এটি কোনো শারীরিক দৃষ্টি নয়, বরং এক আধ্যাত্মিক অন্তর্দৃষ্টি, যা ঈশ্বরের কৃপায় বা যোগ-সাধনার মাধ্যমে লাভ করা যায়।
*#ব্যাসদেব ও সঞ্জয়:
ব্যাসদেব কৌরবরাজ ধৃতরাষ্ট্রের সভাসদ সঞ্জয়কে দিব্যদৃষ্টি প্রদান করেন, যাতে তিনি কুরুক্ষেত্রের মহাযুদ্ধ সরাসরি দেখতে ও বর্ণনা করতে পারেন, যদিও তিনি শারীরিকভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন না।
*#শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুন:
শ্রীকৃষ্ণ যখন অর্জুনকে "বিশ্বরূপ" দেখান, তখন তিনি তাঁকে ক্ষণিকের জন্য দিব্যদৃষ্টি প্রদান করেন। কারণ সাধারণ চোখে সেই অসীম রূপ দেখা সম্ভব ছিল না। এই দিব্যদৃষ্টির মাধ্যমেই অর্জুন শ্রীকৃষ্ণের পরম ব্রহ্মস্বরূপ উপলব্ধি করেন।
এটি সাধারণ শারীরিক চক্ষুর পরিবর্তে মানসিক, আধ্যাত্মিক ও ঐশ্বরিক উপলব্ধির মাধ্যমে কাজ করে।এটি কালের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে পারে—অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ একসঙ্গে দেখা যায়। দিব্যদৃষ্টি লাভ করলে ব্যক্তি ঈশ্বরের প্রকৃত স্বরূপ, আত্মার প্রকৃতি ও প্রকৃত জগতের সত্য উপলব্ধি করতে পারেন।
*#ঈশ্বরের কৃপায় (যেমন শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে দিব্যদৃষ্টি দেন), যোগ, সাধনা ও গভীর ধ্যানের মাধ্যমে এবং গুরু বা সিদ্ধ পুরুষের কৃপায় দিব্যদৃষ্টি লাভ করা যায়। দিব্যদৃষ্টির মাধ্যমে মহাজাগতিক সত্য উপলব্ধি করা সম্ভব হয়।
✍️ রতন কর্মকার

0 Comments