"তৎপ্রসাদাৎ পরাং শান্তিম"
"তাঁর (ঈশ্বরের) কৃপায় পরম শান্তি লাভ হয়।"
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বিভিন্ন শ্লোকে (যেমন ২/৭১, ৫/২৯, ১৮/৬২) উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসক্তিহীনতা, আত্মসমর্পণ ও ভগবানের কৃপা লাভই প্রকৃত শান্তির পথ। মানবজীবনে যতই চেষ্টা করা হোক না কেন, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় চূড়ান্ত শান্তি পাওয়া সম্ভব নয়; তা সম্ভব হয় কেবল ঈশ্বরের কৃপায়।
এখানে "পরাং শান্তিম" মানে কেবল পার্থিব শান্তি নয়, বরং সেই স্থিতিশীল ও চিরস্থায়ী শান্তি, যা মোক্ষ বা মুক্তির সঙ্গে যুক্ত। যখন ব্যক্তি ঈশ্বরের কৃপা লাভ করে, তখন তার মনের অশান্তি দূর হয় এবং সে চিরস্থায়ী আনন্দের (সচ্চিদানন্দ) উপলব্ধি লাভ করে।
"তৎপ্রসাদাৎ" শব্দের মাধ্যমে বোঝানো হচ্ছে যে, এই শান্তি ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার ফল নয়, বরং এটি ঈশ্বরের অনুগ্রহ। তাই অহংকার, মায়া ও কামনা পরিত্যাগ করে নিজেকে ঈশ্বরের ইচ্ছার হাতে সমর্পণ করাই প্রকৃত জ্ঞান ও শান্তির পথ।
এই শাস্ত্রীয় বাক্যের শিক্ষা হলো, কেবল জ্ঞান বা কর্ম যথেষ্ট নয়, বরং ঈশ্বরের কৃপা লাভের জন্য নিষ্কাম কর্ম ও প্রেমভক্তি প্রয়োজন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন— যে ব্যক্তি তাঁর প্রতি একান্তভাবে আত্মসমর্পণ করে, সে প্রকৃত শান্তি ও মুক্তি লাভ করে।
শ্রীমদ্ভাগবতেও বলা হয়েছে যে, "ভগবানের কৃপা ব্যতীত কেউ মোক্ষ বা প্রকৃত শান্তি লাভ করতে পারে না।"
"তৎপ্রসাদাৎ পরাং শান্তিম" এই উক্তিটি আমাদের শেখায় যে, প্রকৃত শান্তি শুধুমাত্র ঈশ্বরের কৃপায় আসে। এজন্য মানবজীবনে ভক্তি, নিষ্কাম কর্ম ও আত্মসমর্পণ অপরিহার্য। ঈশ্বরের প্রতি সম্পূর্ণ বিশ্বাস ও ভক্তির মাধ্যমে এই পরম শান্তি অর্জন সম্ভব।
🙏 জয় গুরু 🙏

0 Comments