রাধাভাব
*#রাধা উল্টো ধারা (আনন্দ ধারা ) সাধক নিজের মনের ভেতর বুঝতে পারছে যে, কৃষ্ণকে না পেয়ে আমার অস্তিত্ব নিরর্থক হয়ে যাচ্ছে, কৃষ্ণকে না পেলে আমি আর এক তিলও বাঁচতে পারব না, এই মানসিকতাটার নাম হলো রাধা (মনের) মানসিকতা।
*#অর্থাৎ আরাধনা ছাড়া সে আর কিছুই জানেনা। এই রাধা মানসিকতার চরম বিকাশ পাচ্ছি ব্রজের কৃষ্ণে- আর কোথাও নয়।
*#মানুষের মন (রাধা ) যখন পরমপুরুষকে পাবার জন্য অত্যন্ত ব্যাকুল হয়, যখন সে সব কাজে পরমপুরুষকে দেখবার চেষ্টা করছে ও শেষ পর্যন্ত দেখছে, এই যে পাবার আকুতি, এটাকে সংস্কৃতে বলে “আরাধনা”(আ+রাধ্+অনট্+আ = আরাধনা)
আর যে আরাধনা করে সেই হলো রাধা। রাধা হচ্ছে ভক্তের মন l
*#এই যে রাধাভাব/মনভাব , এটা হচ্ছে মধুর ভাব। কারণ, জীবনের যা কিছু মধুর অভিব্যক্তি, যা কিছু মাধুর্য্যময় কর্মচর্চা ও কর্ম অনবয়, সেগুলো কৃষ্ণের মধ্যে (৬৪গুণ) পাই এই মধুর রাধাভাব/মনভাব।
*#মধুর_ভাবঃ
আমি আমার সর্ব সত্তা- শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, আধ্যাত্মিক; আমার সর্বসত্তাকে কেন্দ্রীভূত করে তাকে এক বিন্দুতে পর্যবসিত করে আমার সকল আনন্দ ঐ কৃষ্ণের ভিতর দিয়ে পাব- এই যে মধুর ভাব, এই হলো রাধা ভাব/মনের ভাব ।
*#অর্থাৎ কৃষ্ণরূপী (কষ) মহাবিশ্বের প্রাণকেন্দ্র বা মধ্যমনির মধ্যে আমার অর্থাৎ সকল সাধক বা সাধিকার মন যখন এক বিন্দুতে পর্যবসিত হয়ে আনন্দ (ধারা /রাধা ) লাভ করবে। সাধক সাধিকাদের সেই অবস্থার আনন্দময় সুমধুর ভাবটাই হলো রাধাভাব।
*#বিশ্বের সকল মানুষ, জাতি, বর্ণ, ধর্ম, দেশ, ভাষা নির্বিশেষে, সকলেই এক একজন সম্ভাবনাময় রাধা (আনন্দ ধারা )। ব্যাপকার্থে সকল নারী সকল পুরুষই রাধা, যদি তার মন, তার সর্বসত্তা উপরোক্ত মানস অবস্থাপ্রাপ্ত হয়।
তাই সকল সম্প্রদায়ের নর-নারীকে সেই মধুর রাধাভাবকে অর্জনের জন্যে পরমপুরুষকে স্মরণ-মনন নিধি ধ্যানাসনের মধ্যে দিয়েই এগোতে হবে। তবেই মানস আধ্যাত্মিক রাধাভাবকে/মনোভাবকে অর্জন করা যাবে।
*#স্মরণ-মনন নিধিধ্যানাসনের মধ্য দিয়ে পরমপুরুষের দিকে এগিয়ে যাওয়াটাকেই বলে মানস আধ্যাত্মিক সাধনা বিজ্ঞান।
এই মানস আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানের পথে অর্জিত রাগাত্মিকা (অনুরাগী) ভক্তি’র দ্বারা বিন্দুতে পর্যবসিত মনের যে মধুর ভাবাবস্থা সেই ভাবাবস্থাই হলো মানস আধ্যাত্মিক রাধা ভাব/মনের ভাব। শ্রীকৃষ্ণকে স্বচ্চিদানন্দ বলা হয় কারন তার মনে কোন বিষাদ নেই, সুখ দুঃখের অবকাশ নেই। তিনি এক অবস্থায়
আনন্দের (রাধা /ধারার) মধ্যে স্থির থাকেন। তিনি কেবল আনন্দেই বিহার করেন তাই তার
নাম "সশ্চিদানন্দ"। সে আনন্দটাই (রাধা) হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের প্রিয় স্থান। যারা মনে আনন্দকে (রাধাকে) ধারন করেছেন সেখানেই শ্রীকৃষ্ণ বিরাজ করেন। সে আনন্দই হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণ পরমাত্মার নিবাস স্থান। "মানুষের দেহে ৫ টি স্তর আছে"। এই ৫ টি স্তরের মধ্যে কোন স্তরে শ্রীকৃষ্ণ পরমাত্মার অংশ স্বরূপ আত্মার নিবাস স্থান সেটা দেখে নিই।
১) অন্নময় কোষ --- যাহা অন্ন দ্বারা গঠিত হয়েছে। অর্থাৎ এই স্থুল শরীর।
২) প্রানময় কোষ --- এই স্থুল শরীরের ভেতর সূক্ষ্মশরীর অবস্থিত।
৩) মনময় কোষ --- এটা প্রানময় কোষের ভেতর আরো সূক্ষ্মভাবে অবস্থিত।
৪) বিজ্ঞানময় কোষ --- এটা মনময় কোষের ভেতর আরো সূক্ষ্মভাবে অবস্থিত।
৫) আনন্দময় কোষ --- এটা বিজ্ঞানময় কোষের ভেতর আরো সূক্ষ্মভাবে অবস্থিত।
*#এই আনন্দময় (রাধাময় /মনময় /ধারা /নাড়ি ) কোষের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণ পরমাত্মার অংশ স্বরূপ আত্মার অবস্থান।
অর্থাৎ যেখানে আনন্দ সেখানে সশ্চিদানন্দ। যেখানে রাধা (আনন্দ ধারা ) সেখানে শ্রীকৃষ্ণ। আর যেখানে রাধা নেই সেখানে শ্রীকৃষ্ণ (আত্মা নেই /রাধা নেই /দেহে আত্মা কোথায় মনের জানা নেই ) ও নেই। তাই নারী খুঁজে চলেছে/আসবে অপেক্ষায় আছে।
*#রাধা_কোন_নারী_নয়, আনন্দের যেহেতু কোন রূপরেখা নাই। এখানে মানুষকে সহজে বুঝানোর জন্য নারী রূপ দেওয়া হয়েছে।(তিন লক্ষ্য বাহাত্তর হাজার সাড়ে তিনটে নারীর মধ্যে শেষ্ঠ নারী )l নাড়ি শোধন করুন সৎ গুরুর বীজ মন্ত্র দিয়ে।
✍️ ব্যাখ্যাঃ রতন কর্মকার +8801715982155 (whatsapp)
.jpeg)
0 Comments