গুরুর কৃপা ছাড়া আত্মজ্ঞান লাভ করা কঠিন
*#মূলাধার চক্র, যা যোগ এবং তন্ত্রশাস্ত্রে উল্লেখিত শক্তিচক্রগুলোর মধ্যে প্রথম চক্র। মূলাধার চক্র জীবনের ভিত্তি ও স্থিতিশীলতার কেন্দ্র। এটি সৃষ্টির প্রথম ধাপ। ব্রহ্মা হলেন সৃষ্টির দেবতা, যিনি সৃষ্টিকে রূপ দেন। মূলাধারে ব্রহ্মার অবস্থান মানে, এই জগতে জন্ম, বৃদ্ধি এবং বিকাশের শুরু এখান থেকেই। সৃষ্টির এই অবস্থায় মন "সরোবরে" নেই—অর্থাৎ, তখনো চিত্ত বিশুদ্ধ নয়, কারণ এটি সংসার ও ইচ্ছার দ্বারা চালিত হয়।
*#ব্রহ্মা সৃষ্টি করার পর, সংসারী জীবন বা জাগতিক আকাঙ্ক্ষার কারণে আমাদের চেতনার পরিবর্তন হয়। মণিপুর চক্র হলো শক্তির কেন্দ্র, যা ইচ্ছা, বাসনা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করে। হৃদয়চক্র বা অনাহত চক্র প্রেম, অনুভূতি এবং ঈশ্বরের প্রতি ভক্তির কেন্দ্র। কিন্তু যখন সংসারের প্রতি আসক্তি বেড়ে যায়, তখন হৃদয়চক্রের প্রকৃত শক্তি নষ্ট হতে থাকে, এবং মানুষ মায়ার বাঁধনে আবদ্ধ হয়। তাই বলা হয়েছে, সংসারের ইচ্ছা যখন প্রবল হয়, তখন এই চক্রগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হয়।
*#বিষ্ণু হলেন সংরক্ষক দেবতা, যিনি শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করেন। একজন সাধক যখন মায়ার বাঁধন ছেড়ে আত্মজ্ঞান অর্জন করেন, তখন তিনি "ব্রহ্মানন্দ" বা চিরস্থায়ী আনন্দ লাভ করেন। সাধনার মাধ্যমে বিষ্ণুর অবস্থানে পৌঁছানো মানে, শুদ্ধি সাধন করে, ভগবানের সঙ্গে একাত্মতা লাভ করা।
*#সংসার হচ্ছে জাগতিক জীবন, যা মূলত এক ধরনের বিভ্রম (illusion)। শাস্ত্রমতে, সংসারের সবকিছু ক্ষণস্থায়ী এবং পরিবর্তনশীল। এই উপলব্ধি তখনই আসে, যখন একজন সাধক আত্মজ্ঞান লাভ করেন। যা কিছু চিরস্থায়ী তা ব্রহ্মস্বরূপ, আর বাকি সব ক্ষণস্থায়ী ও মায়াময়।
*#গুরুজির বাক্যে বিশ্বাস রাখা এবং তাঁর দেখানো পথে চলা—এটাই প্রকৃত মুক্তির পথ।
গুরুর কৃপা ছাড়া আত্মজ্ঞান লাভ করা কঠিন।
শাস্ত্রমতে, গুরুর আশীর্বাদ যার ওপর থাকে, তার আত্মার বিনাশ হয় না, বরং সে মোক্ষ লাভ করে। গুরুর প্রতি একনিষ্ঠ ভক্তি ও বিশ্বাস থাকা দরকার।
*#সৃষ্টির মূল স্বরূপ বোঝা দরকার—সংসার এবং ব্রহ্মের মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি। সংসার ও মোহের ফাঁদ থেকে মুক্ত হওয়া—জাগতিক আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছা থেকে মুক্তি পাওয়াই সাধকের প্রধান লক্ষ্য। সাধনার মাধ্যমে ঈশ্বর উপলব্ধি করা—বিষ্ণুর চেতনায় স্থিত হয়ে ব্রহ্মানন্দ লাভ করা দরকার। গুরুর কৃপা ছাড়া আত্মজ্ঞান সম্ভব নয়—গুরুদেবের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখে আত্মোন্নতির পথ অনুসরণ করতে হবে।
✍️ ব্যাখ্যাঃ রতন কর্মকার +8801715982155 (whatsapp)

0 Comments