পরশুরামের অবতারত্ব
*#পৌরানিক কাহিনীতে দেখা যায়, পরশুরাম মাতৃহত্যা করেছিলেন । হিংসার বশবর্তী হয়ে একুশবার পৃথিবীকে নিঃক্ষত্ৰীয় করেছিলেন । একটা মানুষ যে গুণে দৈবীসত্তা প্রাপ্ত হয় সেগুণও তাঁর ছিল না । তাহলে, হিংসায় উন্মত্ত পরশুরাম কি করে ঈশ্বরের গুণাবলী নিয়ে অবতার হিসেবে চিহ্নিত হতে পারেন?
*#আসলে এই গল্পটির একটি প্রতীকাৰ্থ আছে, প্রতীকাৰ্থ এই রকমঃ মাতা মানে শক্তি , জগৎ । শুন্যতার বুকে সুপ্ত এই শক্তি স্বভাবগুণে ফুটে উঠে গোলাকার জগৎ তৈরী করে । এই জগৎকে
হনন করে অর্থাৎ জয় করে অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় করে সেই শূন্যতায় ফিরে যিনি যেতে পারেন তিনিই ঈশ্বররপে গ্রাহ্য হন । পরশুরাম এই জগৎকে জয় করে নির্গুন শূন্যতায় স্থিত হতে পারতেন । সুতরাং তিনি ছিলেন ঈশ্বরতুল্য । জগৎ অর্থাৎ শক্তিজয়ী হিসেবে তিনি মাতৃঘাতী । কারণ শক্তিকে স্ত্রীলিঙ্গ বা মাতারপে কল্পনা করা হয়।
*#ক্ষত্রীয় হলেন তিনিই যার মধ্যে সত্ত , রজঃ ও তমঃ গুণের মধ্যে রজঃ ও তমঃ গুণের প্রাধান্য বেশী। কোন সাধক একুশদিন সমাধিস্থ থাকলে এই রজঃ ও তমঃ গুণ সম্পূর্ণ নাশ হয় । তখন তিনি ঈশ্বরের নির্ভেজাল সত্ত্ব গুণের অধিকারী হন । পরশুরাম একুশ দিন সমাধিস্থ থেকে এই জড়প্রধান দুই গুণ অর্থাৎ রজঃ ও তমঃকে জয় করতে পেরেছিলেন বলেই একুশবার ক্ষত্রীয়নিধনকারী রুপে বর্ণিত হয়েছেন ।
*#পরশুরাম কুঠারধারী । এই কুঠার নরহত্যার প্রয়ােজনে ব্যবহৃত কুঠার নয় । এ হল জ্ঞানকুঠার যার দ্বারা অজ্ঞান রপ অন্ধকারকে ছেদন করে সত্যের সন্ধান পাওয়া যায় । সেইজন্য অদ্যাবধি শৈব সাধকেরা কুঠার প্রতীক ধারণ করে থাকেন ।
*#গল্পের এই প্রতীকাৰ্থ খুঁজে পেলে পরশুরামের অবতারত্বের যুক্তিযুক্ততা প্রমাণিত হয় । কিন্তু এই প্রতীকাৰ্থ ধরা না গেলে তা কুসংস্কার ও অজ্ঞানতাতুল্য হয় ।
(রতন কর্মকার)

0 Comments