Recent Posts

6/recent/ticker-posts

eBook অমর যোগী বাবাজি মহারাজ

 অমর যোগী বাবাজি মহারাজ 

স্বল্পমূল্যে পিডিএফ ক্রয় করার জন্য এই হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে যোগাযোগ করুন +8801715982155



মহাবতার বাবাজি মহারাজ হচ্ছেন অমর যোগী, কায়াসিদ্ধ সিদ্ধপুরুষ ও চিরজাগ্রত চৈতন্যের জীবন্ত উপাখ্যান। হিমালয়ের গুহা থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের ক্রিয়া যোগ আন্দোলনের নেপথ্যে যিনি এক অনুপম শক্তিরূপে বিরাজ করছেন, তিনি হলেন মহাবতার বাবাজি মহারাজ। তাঁর নাম উচ্চারণের মধ্যেই যেন এক ধরনের অমোঘ আধ্যাত্মিক কম্পন জেগে ওঠে। তিনি হলেন সেই যোগী, যিনি সময়ের অতীত; যিনি জন্মেছেন, আবার জন্মগ্রহণও করেননি; যিনি দেহধারী হয়েও শরীরাতীত। প্রথাগত ইতিহাসে তাঁর কোনও স্থান নেই, অথচ বিশ্বের আধ্যাত্মিক ইতিহাসে তিনি এক অলৌকিক আলোকস্তম্ভের মতো প্রতিষ্ঠিত।

 

 

বাবাজি মহারাজের জন্মসম্বন্ধীয় তথ্য অত্যন্ত রহস্যময়। তাঁর জন্মস্থান, বয়স, পারিবারিক পরিচয় কোনও কিছুই নিশ্চিত নয়। কিন্তু কিছু নির্ভরযোগ্য আধ্যাত্মিক উৎস অনুযায়ী তিনি বহু শতাব্দী আগে দক্ষিণ ভারতের একটি তামিল ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর শৈশবের নাম ছিল 'নাগরাজ'। অল্প বয়সেই সংসার, পরিবার ও লৌকিক বন্ধন ত্যাগ করে তিনি আত্মানুসন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। তিনি হিমালয়ে প্রবেশ করেন এবং নির্জন এক গুহায় চরম তপস্যায় লিপ্ত হন। বছরের পর বছর ধরে অখণ্ড ধ্যান, প্রাণায়াম, যোগব্যায়াম এবং মহামন্ত্র জপের মাধ্যমে তিনি শরীর ও চেতনার এমন এক শুদ্ধ ও সংহত অবস্থায় পৌঁছান, যা সাধারণ মানুষের কল্পনারও অতীত।

 

এই তপস্যার চূড়ান্ত ফলে বাবাজি মহারাজ যা অর্জন করেন, তা হল ‘কায়াসিদ্ধি’। এই সিদ্ধিতে সাধক নিজের শরীরকে তত্ত্বতঃ এবং তন্ত্রতঃ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। সময়ের উপরে ও বাহ্যিক জৈবিক পরিবর্তনের উপরে সেই শরীর আর নির্ভর করে না। বার্ধক্য, ব্যাধি বা মৃত্যু তাঁর শরীরের উপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না। এই কায়াসিদ্ধি এমন এক আধ্যাত্মিক অর্জন, যা শুধু ভারতবর্ষে নয়, বিশ্বের যেকোনো গূঢ় সাধনমার্গের অন্যতম শীর্ষ স্তর। বাবাজির এই সিদ্ধ অবস্থা তাকে অমর ও সর্বত্রগামী করে তোলে।

 

তাঁর আত্মপ্রকাশ সাধারণভাবে হয় না। তিনি নিজেকে এমনভাবে আড়াল করে রাখেন যে কেবলমাত্র প্রকৃত সাধক বা মহাযাতকেরাই তাঁর দর্শন লাভ করতে পারেন। হঠাৎ করেই তিনি কোনও গুহায়, কোনও নির্জন আশ্রমে বা গভীর ধ্যানে রত কোনও সাধকের কাছে আত্মপ্রকাশ করেন, আবার কিছুক্ষণ পরেই অদৃশ্য হয়ে যান। তিনি যখনই প্রকাশ পেয়েছেন, তাতে মানব সভ্যতার এক গভীর পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

 

এই যোগাবতার মহাসাধক তাঁর আধ্যাত্মিক কীর্তির মধ্য দিয়ে সবচেয়ে বড় যে দানটি মানবজাতিকে দিয়েছেন তা হল 'ক্রিয়া যোগ'। এই যোগপদ্ধতি অতিপ্রাচীন, যার মূল শিকড় পতঞ্জলির রাজযোগ এবং শাস্ত্রীয় তন্ত্রযোগে নিহিত। বাবাজি এই পথকে আধুনিক যুগে নতুন করে উন্মোচন করেন। ক্রিয়া যোগ হল এক বিশেষ ধ্যান ও শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের মার্গ, যার মাধ্যমে মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের কেন্দ্রীয় শক্তি কেন্দ্রগুলো (চক্র) সক্রিয় হয়, এবং ধাপে ধাপে আত্মা তার প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করে।

 

এই পথ কঠোর, তবে বিজ্ঞানসম্মত। এতে ধ্যান, প্রাণায়াম, মন্ত্র, এবং চেতনার সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সাধক নিজেকে বাহ্যজগত থেকে সংহত করে আত্মা ও পরমাত্মার সংযোগ স্থাপন করতে শেখে। বাবাজি মহারাজ বলেন, এই পথ সাধনের জন্য সন্ন্যাসের প্রয়োজন নেই। সংসারে থেকেও, কর্মে থেকেও, এই যোগ সম্ভব—যদি হৃদয় শুদ্ধ হয় এবং মন একাগ্র হয়।

 

বাবাজি মহারাজের এক ঐতিহাসিক অবদান হল — শ্রীমৎ শ্যামাচরণ লাহিড়ী মহাশয়কে দীক্ষা প্রদান। ১৮৬১ সালের দিকে কাশীতে কর্মরত অবস্থায় লাহিড়ী মহাশয় হিমালয়ে ভ্রমণে গেলে বাবাজি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ক্রিয়া যোগে দীক্ষিত করেন। এই সাক্ষাৎ কোনও দৈব ঘটনা ছিল না; এটি ছিল পরিকল্পিত, কারণ সেই দীক্ষার মাধ্যমে মানবসভ্যতার কাছে বাবাজির পথ প্রথমবারের মতো উন্মোচিত হয়। শ্যামাচরণ মহাশয় নিজে ছিলেন গৃহস্থ, কর্মচারি, কিন্তু অন্তরে ছিলেন যোগসাধক। বাবাজির আদেশে তিনি জনসাধারণকে দীক্ষা দিতে শুরু করেন—বিশেষ করে সংসারী মানুষদের। এতে এক বিপ্লব সূচিত হয়। কারণ এর আগে সাধারণভাবে ধারণা ছিল, মুক্তি ও আত্মজ্ঞান কেবল সন্ন্যাসীর জন্যই। বাবাজি ও লাহিড়ী মহাশয় প্রমাণ করেন—সত্যিকারের আধ্যাত্মিকতা মন ও কর্মের মধ্যেই নিহিত, পোশাক বা গৃহত্যাগে নয়।

 

 

লাহিড়ী মহাশয়ের উত্তরাধিকারসূত্রে শ্রী Yukteswar Giri এবং তাঁর শিষ্য, বিশ্বখ্যাত আধ্যাত্মিক গুরু Paramahansa Yogananda বাবাজি মহারাজের দর্শনকে বিশ্বজুড়ে পৌঁছে দেন। যোগানন্দজির লেখা “Autobiography of a Yogi” গ্রন্থটি বাবাজিকে প্রথমবারের মতো পশ্চিমা বিশ্বের সামনে পরিচয় করিয়ে দেয়। তিনি এই গ্রন্থে বাবাজিকে 'deathless saint' বা অমর সাধক রূপে বর্ণনা করেন এবং তাঁর অলৌকিক ক্ষমতা, চিরজাগ্রত উপস্থিতি ও চেতনাপ্রবাহ নিয়ে বিস্ময়কর সব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

 

বাবাজি কখনো কখনো নিজে শিষ্য নির্বাচনের জন্য আবির্ভূত হন। কখনো কখনো গভীর ধ্যানে থাকা সাধকদের চেতনার অন্তঃস্থলে তাঁর বাণী অনুরণিত হয়। তিনি বলেন, আত্মা চিরন্তন, ঈশ্বর সর্বত্র; মানবজীবন শুধুমাত্র দুঃখ ও মৃত্যু পেরিয়ে সেই সত্য উপলব্ধির একটি সুযোগ। তাঁর দর্শন বিশ্বজনীন। তিনি কোনও ধর্মের সীমানায় নিজেকে আবদ্ধ

 

রাখেন না। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইসলাম—সব ধর্মের সাধকরাই তাঁকে দেখেছেন, অনুভব করেছেন, তাঁর আশীর্বাদ লাভ করেছেন।

 

আজও বিশ্বের নানা প্রান্তে হাজারো সাধক ও আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানকারী বাবাজি মহারাজের নাম জপ করেন—" क्रिया बाबाजी नमः "। এই মন্ত্র যেন আত্মার স্পন্দনে এক আলোড়ন তোলে। কেউ তাঁকে দেখে না, কিন্তু অনুভব করে। কেউ তাঁর সাক্ষাৎ পায় না, কিন্তু তাঁর কৃপা জীবনে প্রসারিত হয়। তাঁকে নিয়ে কোনও সংস্থা গড়ে ওঠে না, কিন্তু তাঁর কৃপায় গড়ে ওঠে লক্ষ লক্ষ আত্মার ভিতরকার জাগরণ।

 

বাবাজি মহারাজ আমাদের শিখিয়েছেন—"মানুষ নিজেই অনন্তের সন্তান, এবং আত্মজ্ঞানের পথ তার মধ্যেই নিহিত। দেহ-মন নিয়ন্ত্রণ, নিরব সাধনা, এবং সর্বোচ্চ আত্মবিশ্বাসই ঈশ্বরপ্রাপ্তির প্রধান উপায়।"

 

 

এই অলৌকিক যোগী আমাদের প্রতিটি মুহূর্তে স্মরণ করিয়ে দেন—তুমি শরীর নও, তুমি আত্মা; তুমি ক্ষণস্থায়ী নয়, তুমি চিরন্তন; তুমি শূন্য নও, তুমি পরিপূর্ণ।

এমন এক মহাপুরুষের জীবনকে কোনও ইতিহাসের পৃষ্ঠা, কোনও বই বা কোনও শব্দে বন্দি করা যায় না। তিনি আছেন, ছিলেন, এবং চিরকাল থাকবেন। যিনি ধ্যান করেন, অন্তরজগত উন্মুক্ত করেন, যিনি প্রভুর সন্ধানে নিজেকে উৎসর্গ করেন, তাঁর হৃদয়ের গোপন কক্ষে বাবাজি একদিন আবির্ভূত হবেন—নীরবে, গৌরবে, চিরশান্তির দ্যুতিতে।

মহাবতার বাবাজি মহারাজ হলেন যোগসাধনার এক রহস্যময় ও প্রভাবশালী চরিত্র, যাঁকে অনেকেই অমর এবং সর্বজ্ঞ গুরু বলে মনে করেন। ভারতীয় আধ্যাত্মিক চর্চায় তাঁর প্রভাব অপরিসীম। তাঁকে ক্রিয়াযোগের আধুনিক ধারার

জনক হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তাঁর জীবন ও শিক্ষার মাধ্যমে অগণিত সাধক ও অনুসারী আলোকিত হয়েছেন। এই গ্রন্থে আমরা মহাবতার বাবাজির জীবন, পরিচয় এবং যোগসাধনায় তাঁর অনন্য অবদানের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

Post a Comment

0 Comments