Recent Posts

6/recent/ticker-posts

রাম ঠাকুরের বাণী

 



রাম ঠাকুরের বাণী

"ক্ষণিক সুখে মজিয়া থাকিলে পরে পরিণামে দুঃখই থাকে। পরিত্রাণের জন্য অবশিষ্ট সুখরূপ সত্যের লেশমাত্র থাকেনা। ক্ষণিক সুখে মজিয়া থাকিয়া কৃত ধর্ম নষ্ট করিতে নাই।"

এই বাণীতে সর্বপ্রথম একটি মৌলিক দ্বন্দ্বের কথা বলা হয়েছে—ক্ষণিক সুখ বনাম চিরস্থায়ী কল্যাণ। জীবনে অনেক সময় আমরা তাত্ক্ষণিক আনন্দ বা ইন্দ্রিয়সুখের মোহে আটকে যাই। কিন্তু সেই সুখ শেষপর্যন্ত আমাদেরকে গভীর দুঃখের দিকে ঠেলে দেয়। এটি আসক্তির পথে একপ্রকার আত্মবিস্মরণ।

সাধনার পথে এটি এক ভয়ানক ফাঁদ—মোহ। শাস্ত্র অনুযায়ী, মোহ মানুষকে তার আত্ম-উদ্ধার বা মুক্তির পথ থেকে বিচ্যুত করে।

বাণীতে বলা হয়েছে, "পরিত্রাণের জন্য অবশিষ্ট সুখরূপ সত্যের লেশমাত্র থাকেনা।"

এখানে বোঝানো হচ্ছে, মোহে ডুবে গেলে সত্যের স্পর্শ পর্যন্ত পাওয়া যায় না। আত্মোপলব্ধি বা ঈশ্বরপ্রাপ্তির জন্য যে ভেতরের নিস্তব্ধতা ও স্বচ্ছতা দরকার, তা ক্ষণিক সুখভোগে নষ্ট হয়ে যায়।

সত্য অনুধাবনের জন্য ইন্দ্রিয়সুখ থেকে সরে আসা জরুরি। এই সূত্রেই বুদ্ধ, যীশু, রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, বা ঋষিদের জীবনকে বোঝা যায়।

শেষের বাক্যে আছে: "ক্ষণিক সুখে মজিয়া থাকিয়া কৃত ধর্ম নষ্ট করিতে নাই।"

এটি গভীরভাবে নির্দেশ করে যে ধর্ম মানে শুধু আচার নয়, জীবনের গূঢ় দায়িত্ব। কোনো কিছু যদি আমাদের স্বধর্ম বা আত্মোন্নতির পথ থেকে বিচ্যুত করে, তাহলে তা পরিত্যাজ্য—even যদি তা সুখের হোক।

গীতা-র এই ধারার প্রতিধ্বনি শোনা যায় এখানে—"স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ পরধর্মো ভয়াবহঃ।"

এই বাণী একটি কঠিন কিন্তু করুণাময় আহ্বান—জাগো, নিজের ভেতরের ভ্রান্তির দিকে চেয়ে দেখো। সুখের মোহ নয়, বরং আত্মশুদ্ধির যাত্রাই প্রকৃত ধর্ম। সুখ নয়, সত্যই মোক্ষের পথ।

Post a Comment

0 Comments